পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে রাষ্ট্রপতি বলেন, “এটা তো সর্বজনবিদিত, আমার মুখ থেকে শুনে কী লাভ? আই অ্যাম সিক, সো ইট ইজ ডান।” পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “বলে দিছি, বুঝে নেন।”
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ঘোষণার পর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম শুক্রবার বিকেল ৫টায় জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আহ্বান জানান। সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ-পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নিয়ে স্পিকার বক্তব্য দিতে পারেন।
এর আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ব্যাংককে গিয়েছিলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ২৬ জুলাই দেশে ফেরার কথা থাকলেও রাষ্ট্রপতির পদত্যাগকে ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতির মধ্যে তিনি নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগে শুক্রবার দুপুরে দেশে ফেরেন।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান রয়েছে।
বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনের একাধিক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং এ–সংক্রান্ত চিঠি প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে স্পিকার দেশের বাইরে থাকায় পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হচ্ছিল।
বঙ্গভবনের দায়িত্বে থাকা আরেক কর্মকর্তা জানান, কয়েক দিন আগে রাষ্ট্রপতি তাঁদের উদ্দেশে বলেন, “ওরা আমাকে (রাষ্ট্রপতি) চলে যেতে বলেছেন। হয়তো আমার চলে যেতে হবে। তোমরা চলতি মাসের মধ্যেই বঙ্গভবন ছেড়ে যার যার মতো করে চলে যাও।” তবে ‘ওরা’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। তিনি ভিন্ন সময়ে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করানো দেশের একমাত্র রাষ্ট্রপতি।